মৃত্যুপ্রায় ইছামতি যখন সংকটের মধ্য দিয়ে নিবু নিবু করে বেঁচে আছে- তখন বেদে পরিবারগুলো আঁকড়ে আছে প্রাচীন এই পেশা নিয়ে। শত শত বছর ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ভেসে চলছে ইছামতি আনাচে কানাচে। এই ইছামতিই তাদের জীবিকা, ইছামতি তাদের সুখ দুঃখ , বেদনা- জীবন যাপনের সাথী। এক সময় দল বেঁধে নৌকা করে করে বিভিন্ন মেলাতে , হাটেতে অনেক সময় বড় বড় বাজারে নৌকা বেঁধে নেমে পড়তো হাট বাজার, পাড়া মহল্লা ও মেলাতে। কিছুদিন থাকার পর এই বহর আবার অন্য জায়গায় লোঙ্গর ফেলতো । এক এক দলের সাথে একজন করে সর্দার থাকে। সেই সর্দারের নির্দেশ সকলেই মেনে চলে। যুগের পরিবতন হয়েছে। মানুষ রুচিবোধও বদলিয়েছে। তাই পুরাতন ধ্যান ধারনার প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে। বেদেদের এই পেশাকে মানুষ সহজে গ্রহন করতে চাচ্ছে না। অনেকে ধোকা বাজি বলে উড়িয়ে দেয়। কেউ সাপের খেলা দেখায়, কেউ কসমেটিক বিক্রি করে আবার কেউ মাছ ধরে মাছ বিক্রি করে।
বেদে সম্প্রদায়ের এই করুন অবস্থা চলতে থাকায় অনেকে পেশা পরিবতন করেছে। অনেকে ভাসমান জীবন ত্যাগ করে শুকনো জায়গায় বসবাস করতে শুরু করেছে।কিন্তু নিজস্ব জায়গা না থাকাতে যাযাবরের মতো জীবন যাপন করছে।
মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলাতে এই নৃৎগোষ্ঠীর বসবাস বেশী। তারমধ্যে লৌহজন উপজেলার বেদের সংখ্যা বেশী। সরকার এই বেদে পরিবারগুলো তালিকা তৈরি করেছে এবং এই অঞ্চলটির প্রায় ৫০ হাজার বেদে পরিবার বসবাস করে থাকে। সরকার সম্প্রতি সময়ে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের আবাসিক ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
নিজস্ব আবাসভূমি না থাকলেও সরকার ভোটার তালিকাতে তাদেরকে অন্তভূক্ত করেছেন। পেশা বদল করে জলে থেকে ডাঙ্গায় উঠলেও এখনো ইছামতিসহ আশেপাশে নদীগুলোতে প্রায় ৫/৬ হাজার বেদে পরিবার ভেসে বেড়াচ্ছে তাদের পৈত্তিক পেশা নিয়ে। ডাঙ্গায় বসবাসরত পরিবারগুলো সরকারের কিংবা বিভিন্ন ধনী মানুষের সাহায্য সহযোগীতা পেলেও ভাসমান বেদে পরিবারগুলোর খবর কেউ রাখে না।
নবাবগঞ্জ দোহারে বেদে পরিবারের সংখ্যা খুবই কম দেখা যায়্ । এক সময় বান্দুরা ও বারুয়াখালী এলাকাতে কিছু বেদে পরিবার ছিলো। পরবতীতে এরা পেশা বদল করে নিজেরা জায়গা জমি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেছে। নবাবগঞ্জের নিকটবর্তী সিরাজদিখান ও শ্রীনগন উপজেলা হওয়াতে অনেক বেদে পরিবার ইছামতি নদী দিয়ে ভেসে ভেসে সমস্ত দোহার নবাবগঞ্জ এলাকাতে ঘুরে বেড়ায়।
ভাসমান এই পরিবারগুলো রুগ সুখ সবই বিধাতার উপর ছেড়ে দিয়ে বসবাস করে থাকে।
আসুন ভাসমান এই পরিবারগুলোকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে সম্পুক্ত করার উদ্যোগে গ্রহনে আমরা সাহায্য করি- যাহাতে এই ভাসমান জীবন পরিবার সুষ্ঠ্য সুন্দর জীবন ধারন করতে পারে।
তবেই আমাদের চলার পথ , আমাদের সমাজ আমাদের রাষ্ট এবং আমরা ভেদাভেদবিহীন সমাজে বসবাস করতে পারবো।
ছবিটি গতকাল খারশুর ব্রীজের নীচে সিরাজদিখান ও নবাবগঞ্জের সংযোগ স্থল থেকে তোলা ভাসমান বেদে পরিবারের।
